সর্বশেষ

কারাগারে সাত নেতা, আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছে পালিয়ে!

ই-বার্তা।। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্মম হাতুড়িপেটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামের পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। আঘাত পেয়েছিলেন মেরুদণ্ড ও মাথায়। মাথার আঘাতটা ভালো হয়েছে, কিন্তু মেরুদণ্ডের ব্যথা রয়ে গেছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পায়ের।

 

শুধু তরিকুল ইসলামই নন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধরে আহত হয়েছিলেন। গত ৩০ জুন থেকে পরের এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে সরকারি হাসপাতালে তাঁদের ভালো করে চিকিৎসা করা হয়নি। পরে গোপনে চিকিৎসা নিয়ে একধরনের ‘পলাতক’ জীবন যাপন করছেন। পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন ১১ জন আন্দোলনকারী। একাধিক মামলায় এখনো কারাগারে আছেন সাতজন শিক্ষার্থী।

 

সব মিলিয়ে চাকরির জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন থেকেই দূরে থাকতে হচ্ছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন  বলেন, ‘আমরা যারা হলে থাকতাম, তাদের কেউ এখন হলে থাকতে পারছি না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারাই এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, সবাই গুম এবং গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এতে এই আতঙ্ক বাড়ছে। তারপরও কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা নতুন কর্মসূচিতে যাব, গ্রেপ্তারকৃতদেরও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে ৩০ জুন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হককে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গত বুধবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। মারের চোটে বাঁ পাশের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, ডান কাঁধের জোড়া সরে গেছে। সারা শরীরে এখনো মারের ব্যথা। ঠিকমতো হাত নাড়াতে পারেন না। একটানা বেশিক্ষণ হাঁটতে বা বসে থাকতে পারেন না। একাধিক আন্দোলনকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন। সরকারি চাকরি পেতে যাঁরা আন্দোলনে নেমেছিলেন, সেই চাকরি পাওয়া তো দূরের কথা, এখন মামলা-হামলা এড়িয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়েই দুশ্চিন্তা তাঁদের।

 

আহত এক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু ভয়ে তিন দিনের বেশি হাসপাতালে থাকতে পারেননি। হাতে-পায়ে-পিঠে আঘাত নিয়েই হাসপাতাল ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনকারীদের ছাত্রলীগ দিয়ে মারধর করার পরে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হলো। সবাই সবকিছু দেখল। এখনো মাথার ওপরে মামলার খাঁড়া। কী জানি কপালে কী আছে! স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দেওয়া আহত আরেক ছাত্র বলেন, ‘যে সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করলাম, সে চাকরি যে আর জীবনে পাব না, তা নিশ্চিত। এখন আমরা স্বাভাবিকভাবে বাকি জীবনটা কাটাতে চাই। কিন্তু এখনো ক্যাম্পাসে যেতে পারি না। ফেসবুকেও নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছি। আপনারা লেখেন, সরকার যেন আমাদের আর কিছু না করে।’

 

 

ই-বার্তা/ডেস্ক রিপোর্ট