সর্বশেষ

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মহানুভবতা

ই-বার্তা ডেস্ক ।।  কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু  ২০১৪ সালে আড়াই বছরের ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসার্থে  আর্থিক অনুদান  দিয়েছিলেন ।সিদ্দিকী নামে জনৈক ব্যক্তি এমনি এক মহানুভবতার গল্প তুলে ধরেছেন আবু বকর।

 

নেত্রকোনার কৃষ্ণপুর বড়বাড়ির অধিবাসী এক ব্যক্তি ২০১৪ সালে তার বোনের আড়াই বছরের ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসার্ জন্য বিভিন্ন সোর্স থেকে অপারেশনের জন্য টাকা সংগ্রহ করি। তারপরও  প্রায় দেড় লাখ টাকার ঘাটতি ছিল,  এই অল্প সময়ের মধ্যে যা কোনোভাবেই জোগাড় করতে পারছিলাম না। তখন আর কোন উপায় না দেখে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আয়ানের অপারেশনের জন্য সাহায্য চেয়ে  ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়। আরও সাত ঘণ্টা সময় হাতে ছিল।

 

কিন্তু  হতাশ হয়ে গেলাম সকাল ৯টা পর্যন্ত কারও কোনো সাহায্য না পেয়ে।সংগৃহীত টাকা পেমেন্ট করে ডাক্তার সাহেবকে অনুরোধ করলাম অপারেশন শুরু করার প্রস্তুতি নিতে বকেয়া টাকার জন্য তিন ঘণ্টা সময় নিলাম ।দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম অপারেশন থিয়েটারের সামনে।মহান ব্যক্তির আগমন ঘটল ঠিক তখনই ।এসেই তিনি আয়ানের অভিভাবককে খুঁজতে লাগলেন। আমরা তখন তার সঙ্গে কথা বললাম এবং খুবই অবাক হলাম ওনাকে দেখে। জানতে পারলাম আয়ানকে দেখতে এসেছেন উনি ফেসবুকের পোস্টটা দেখে।

 

জরুরি বিভাগ থেকে আয়ানকে অচেতন এবং অক্সিজেন মাস্ক পরানো অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে আনা হয়। ওই ভদ্রলোক আয়ানকে দেখে কাছে গেলেন এবং আয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দুই-তিনবার বললেন, আয়ান বাবুটা, সোনামনিটা, আল্লাহ্ তোমাকে ভালো করে দিবেন, সুস্থ করে দিবেন।এ কথাগুলো বলে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে দিলেন। তার কান্না দেখে আমরাও কেঁদে ফেললাম।

 

ওই বিশেষ ব্যক্তিটি তখন জানালেন সম্পূর্ণ বকেয়া টাকা তিনি পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং উনি জীবিত থাকাবস্থায় আমরা যাতে ওনার এই আর্থিক সহযোগিতার কথা কাউকে না বলি অনুরোধ করলেন।জীবিত নেই আজ উনি । তাই নিজেকে কোনোভাবেই আর আটকাতে পারলাম না, বলে ফেললাম।উনি আর কেউ নন- প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু। মহান আল্লাহ্তায়ালা এই মহামানবকে বেহেশত নসিব করুক… আমিন, আমিন, আমিন।’

 

 

 

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার আইয়ুব বাচ্চু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাত্র ৫৬ বছর বয়সে। সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে জনপ্রিয় এ শিল্পীর মৃত্যুতে । ১৯ অক্টোবর পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

 

 

 

 

ই-বার্তা / ডেস্ক