সর্বশেষ

দল ও জনগণ গণতান্ত্রিক নয় অথচ গণতন্ত্রে ব্যস্ত সর্বদা

আকরাম হোসেন।। সাংবিধানিক ভাবে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেখান থেকে একজন তরুণ ছাত্রনেতা বা রাজনীতিবিদের স্বপ্ন দেখার কথা ছিলো দলের প্রধান হয়ে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মত বড় দলের নেতৃত্ব দিবে। আমাদের দেশে সেটা আপাতত অলিখিত ভাবে বন্ধ, অপরদিকে রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণ সেটা ভুলেও চিন্তা করতে পারে না যে বঙ্গবন্ধুর পরিবার বাইরে অন্য কেউ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান হবে। অপর দিকে জিয়ার পরিবারের বাইরে কেউ বিএনপির দলীয় প্রধান হবে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কোন দলই সুযোগ রাখেনি যে তৃণমূল থেকে উঠে এসে কেউ মেধা, শ্রম, যোগ্যতা, সতত্যানিষ্ঠার মাফকাঠিতে দলীয় প্রধান হবে অথচ এরা সবাই দল হিসাবে এবং দলের নেতাকর্মী হিসাবে গণতান্ত্রিক দাবী করে। হুসেন মাহামুদ এরশাদের জাতিয় পার্টিরও একই অবস্থা।

 

আমাদের গণতন্ত্রের অবস্থা অনেকটা সিংহ, হায়েনা আর শিয়ালের গল্পের মত। গল্পের সারমর্ম ছিলো, একবার এক সিংস, হায়েনা আর শিয়াল মিলে শিকারে বের হয়েছে। সারাদিন ঘুরে তারা শিকার করেছ একটা করে মোরগ, খরগোশ আর হরিণ। সন্ধ্যায় ভাগবাটোয়ারা করতে বসছে, সিংহ প্রথমেই হায়েনাকে ভাগ করতে বলে। হায়েনা আগে সিংহকে থেকেই সমিহ করে চলে। সে হুকুমের পর ভাগ করা শুরু করে। সিংহকে খুসি করার জন্য হায়েনা বলে, হুজুর আপনিতো অনেক বড় আর শক্তিশালী আপনি হরিণ নেই, আমি একটু ছোট খরগোশ নেই আর বেটা শিয়াল আরো ছোট মোরগ নিক। সিংহ কথা শুনে বেজাই রাগ, হুংকার দিয়ে বলে বেয়াদব হায়েনা! তোমাকে ভাগ করা কে শিখিয়েছে, বলেই হয়েনাকে ঘাড় ধরে ছুড়ে ফেলে দেয়। তারপর বিচারা শিয়ালকে ভাগ করতে বলে। শিয়াল সিংহকে উদ্দেশ্য করে বলে হুজুর এমন কঠিক কি কাজ, আপনি সকালে মোরগ দিয়ে নাস্তা করবেন, দুপুরে খরগোশ দিয়ে লান্স করবেন, রাতে হরিণ দিয়ে ডিনার করবেন

 

আমাদের রাজনৈতিক দলের অবস্থা প্রায় একই রকম। দলের নেতাকর্মীরা কতটুক গণতন্ত্র পাবে তার জন্য কেদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। বিএনবি বা আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের চর্চা আগে থেকে পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে আছে। পরিবার থেকে দলের সভাপতি হয় এবং সভাপতির ইচ্ছা মত পার্টির অন্য কমিটি দেওয়া হয়। দলের মধ্যে থেকে শাসন ক্ষমতা পরিবারের বাইরে নেওয়ার সুযোগ যেমন পায়নি তেমন নেতাকর্মীরা সেটা ভাবতও পারে না

 

বিএনপির গঠনতন্ত্রে যদিও () উল্লেখ রয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তিন বছর অন্তর অন্তর চেয়ারপার্সন নির্বাচন করবে। সেটা অবশ্য ফরমালিটি মধ্যে রয়ে গেছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যারা পরিবারের বাইরে কখনও চিন্তা করতে পারেনি। বিএনপির বর্তমান চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবর্তে তারেক রহমানকে বিএনপির ভবিষৎ চেয়ারপার্সন ধরে রেখেছে, কোন কারণে সম্ভব না হলে তার স্ত্রী ড. জোবাইদা রহমান চেয়ারপাসর্ন হবে। অপর দিকে আওয়ামী লীগের অবস্থা একই রকম। বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতে সজিব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বা কেউ কেউ শেখ রেহেনার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে ভবিষৎ সভাপতি হিসাবে দেখছে। আমাদের গণতন্ত্র ঘুরপাক খাচ্ছে পরিবারের মধ্যে। অতিতে ভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু দুই পরিবারের মধ্য এক পরিবারকে বেছে নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। নির্বাচনে অন্য সব দল অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মত জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র খুঁজতে হলে অবশ্যয় এই দুই দলের কাছেই খুঁজতে হবে। এজন্য প্রয়োজন দলীয় গণতান্ত্রের চর্চা, তা নাহলে বর্তমান অতিতের মত যারা সুযোগ পাবে তারাই ক্ষমতা কেন্দ্রিভুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। দলীয় গণতন্ত্র না থাকলে রাষ্ট্রীয়ভাবে গণতন্ত্রের চর্চা করা অসম্ভব হয়ে পরবে

http://www.e-barta247.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%8f%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0/