সর্বশেষ

সিনেমার খল চরিত্র শুধু বিশ্রী হবে কেন?

আশরাফুজ্জামান মণ্ডল

এক

আমার ছেলে বেলায় পল্লী গ্রামে ভিসিআর নামক একটা জিনিসের ব্যাপক প্রচলন ছিল। সাধারণত এলাকার যুবক পর্যায়ের কয়েক জন মিলে গ্রাম্য বাজারে ভিসিআর দিয়ে সিনেমা দেখানোর ব্যবসা করতেন। কদাচিৎ উৎসব উপলক্ষে পল্লী গৃহিণীদের সাথে আধুনিক বাংলা এবং হিন্দি সিনেমার পরিচয় করিয়ে দিতে তারা পাড়ায় ভিসিআর দেখানোর আয়োজন করতেন।

গ্রামের মানুষ যেহেতু দিনের বেলায় মাঠে পরিশ্রম করেন ফলে ভিসিআর দেখানোর আসর বসত সন্ধ্যার দিকে। আমার যতদুর মনে পড়ে ১৯৯৯ কিংবা ২০০০ সালের দিকে প্রথম আমি এই যন্ত্রটার সাথে পরিচিত হই। ৯৯ এর বন্যায় তখন আমাদের পাড়ার সমস্ত মাটির ঘর বিলিন হয়ে গেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী বউ বিবি বাচ্চাদের দিয়ে সবাই ঘর নির্মাণ করলেন।

কিন্তু মাটির দেয়াল গুলোর দিকে তাকালেই দারিদ্রের কড়া ছাপ স্পষ্ট দেখা যেতো। প্রায় অনেকের মত আমাদের নিজেদেরও ঘরে রান্নার চাল জোটে না। তবে আমার নানা ছিলেন একই গ্রামের ধর্নাঢ্য ব্যক্তি। ফলে অভাব থাকলেও খাদ্য সংকট কোনদিন আমাদের ছোয়নি। এদিক থেকে পাড়ার অন্য আর দশ জনের থেকে আমার পরিবারের বরাত ছিল কিছুটা উন্নত। কার্তিক মাসের ঘটনা।

এ সময় অভাব ব্যাপারটা কি উত্তরাঞ্চলের পাড়া গ্রামের মানুষ বৈ দেশের অন্য অংশের মানুষ জানে কি না আমার ধারণা নেই। তবে আগের দিনের মত মানুষ উপোস না করলেও এই সময়টাতে তাদের অভাবের পরিবর্তন একেবারে হয়নি। থাক সে অন্য আলোচনা। যে কথা বলছিলাম। কার্তিকের প্রবল দারিদ্রের মধ্যে একদিন বিকালে গ্রামের কয়েকজন বড় ভাই আমাদের বাড়িতে আসলেন চাঁদা নিতে ভিসিআর দেখাবেন বলে। ১০ টাকা অথবা আধা সের চাল।

আব্বার কাছে টাকা ছিল না তাই নানা বাড়ির চাল দিয়ে ইজ্জৎ রক্ষা করলেন মা। আমার মনে আছে সেদিন পাড়ায় এক প্রকার ঈদ/পূজোর ধুম পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে আমরা ৭-৮ বছরের ছেলেরা আনন্দে তিড়িংবিড়িং ডান্স দেয়া শুরু করেছিলাম। ভিসিআর নিয়ে সে কি গল্প। কেমন এই জিনিসটা? গ্রামের বাজারে বহুবার দেখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।

চাটাই ঘরের বাহির থেকে ঢিশুম ঢিশুম শব্দের মারামারি শুনেই নিজেকে শান্তনা দিতে হয়েছে বহুবার। কখনোবা কৌতূহল থামাতে না পেরে বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখতে গিয়ে বড় ভাইদের হাল্কা লাথি আর কানমলা খেয়েছি। বড়ই সাধের জিনিস বুঝতেই পারছেন। সেটা আজ দর্শন দেবে। পাড়া গ্রামের মানুষ তখন যে দু তিনজন অভিনয় শিল্পির নাম জানতেন তাদের মধ্যে মান্না আর ডিপজল ছিলেন তাদের কাছে অনেকটা রামায়ণে বর্ণিত রাম রাবণ চরিত্রের মত পূজনীয় এবং দূষণীয়।

সে সময় যুবক শ্রেণির যারা বাজারে নিয়মিত সিনেমা দেখতেন তাদের প্রতিদিনের আড্ডা, খোশ গল্প, মক্তব, মাদ্রাসা, স্কুলের ক্লাশ থেকে ফসলের মাঠ পর্যন্ত ছবির তুমুল আলোচনা, বিতর্ক, ঝগড়া পর্যন্ত বেধে যেতো। গল্পগুলো ছিল এরকম । কি শক্তিরে ভাই ! মান্না একলাই ডিপজলের গুণ্ডা গুলাকে কি মাইর মারছে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এদের মধ্যে যারা একটু বেশি কৌতূহলী তারা মান্না ডিপজলের ডায়ালগ মুখস্থ করে রাখতেন।

আর কথায় কথায় বলতেন, সানডে মানডে ক্লোজ কইরা দিমু, কলে টিপ দিলে পানি পড়ে, সিল মাইরা দিমু, চল পাট ক্ষেতে যাই, লালে লাল কইরা দিমু অন্যদিকে মান্নার, জমের হাত থেকে ছাড়া পাবি বিপ্লবের হাত থেকে নয়, মৃত্যুর আরেক নাম বিপ্লব, ইত্যাদি সব ডায়ালগ তারা সারাদিন মুখে আওড়াতেন। ফলে আমার বয়সী ছেলেরা সারাদিন এদের আশেপাশে ঘুর ঘুর করতাম সিনেমার গল্প শোনার জন্য। বুঝতেই পারছেন সে কালে পল্লী গ্রামে ডিপজল মান্নার নাম যত বার নেয়া হত ততবার আল্লাহ রাসুলের নাম নেয়া হত কিনা আমার ঢের সন্দেহ আছে ! ফলে পাড়ায় যেদিন ভিসিআর দেখানোর আয়োজন চলছিল তখন সবার আবদার ছিল মান্নার যেকোন একটি প্রতিবাদী সিনেমা যেন দেখানো হয়।

সাথে ডিপজল অবশ্যই থাকবেন। নিরিহ জনতার মলিন আবদার সেদিন রেখেছিলেন পাড়ার বড় ভাইয়েরা। সিনেমার নামটা আমার এখন মনে নেই তবে মান্নার বিপরীতে সেদিন খল অভিনেতা ডিপজলের নামটা ছিল বিশু। ভয়ংকর কিম্ভুতকিমাকার এক চেহারার এক ব্যক্তি। সাদা লুঙ্গি আর গায়ের ওপর একখানা সাদা চাদরের মত কাপড় মেয়েদের ওড়নার মত করে গলার ওপর দিয়ে শরীরের সামনের অংশে ঝুলছে। বাকী শরীর উলঙ্গ। গলা, হাতের আঙ্গুল, কব্জিতে অসংখ্য রিং আর চেইনে ভর্তি। ডায়ালগ গুলো ছিল আরও ভয়ানক।

কথায় কথায় নাটকির পো ……… পো’র মত অশ্রাব্য ঢাকাইয়্যা ভাষা। সিনেমার ভিলেন আমি এর আগে দেখিনি তা নয়। বিটিভির কল্যাণে প্রতি শুক্রবার যে সিনেমা প্রদর্শন হতো তা রীতিমত পাড়াগ্রামে উৎসবের দিন হিসেবেই শ্রদ্ধা আর ভক্তিতে পালন করা হতো। কারণ আধুনিক বাংলাদেশের পীড়িত পল্লীদেশে সে সময় বিটিভির এই একদিনের সিনেমাটাই ছিল রঙ্গীণ দুনিয়ার সাথে প্রথম প্রেমের মতো। তাও সেকি যুদ্ধ করে সিনেমা দেখা ! সেকালে গ্রামজুড়ে হাতে গোনা দু চারজন ব্যক্তির বাড়িতে সাদাকালো টেলিভিশন ছিলো। আর বিদ্যুতের অবস্থা তো আরও ভয়ানক। সিনেমা শুরু হওয়ার পর এক বার গেলে শেষ না হওয়া অব্দি পাওয়া যেতো না।

ফলে বিদ্যুৎ কর্তাদের দয়াপরবশ হৃদয় যেদিন সুপ্রসন্ন হতো সেদিন পল্লী গৃহিণী থেকে সর্ব বয়সী ভক্তবৃন্দ ইহাদের নামে নফল নামাজ পড়ে বিশেষ প্রার্থনা করত বৈ কি ! বিটিভিতে সে সময় গগণচুম্বী জনপ্রিয় জুটি মান্না-ডিপজলের সিনেমা একটা দেখা যেতো না। তবে আরেক জনপ্রিয় সুপারস্টার এবং একশন হিরো রুবেলের সিনেমা বেশ দেখানো হতো। ফলে আমার বয়সী ভক্তদের হৃদয়ে রুবেলের স্থান ছিল বিশেষ মর্যাদার কিছুটা উপরে। কে বেশি মারামারি করতে পারে মান্না নাকি রুবেল? এই নিয়ে পাড়ার ছেলেদের তুমুল তর্ক নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। আমিও যোগ দিতাম মাঝে মধ্যেই। কারণ আমি ছিলাম রুবেল সাহেবের ভক্তবৃন্দের তালিকায় সবার সামনেই বৈ এক কণা পিছনে নয়। রুবেলের সাথে জুটি হয়ে প্রয়াত হুমায়ুন ফরীদি খল অভিনয় করতেন সবচেয়ে বেশি। তবে তার চরিত্রের মধ্যে হুংকার, গর্জন, কুশ্রী ভাষা ব্যবহারের চাইতে কুটবুদ্ধির প্রয়োগটাই ছিল বেশি।

হুমায়ুন ফরিদীর চরিত্রের মূল শক্তি ছিল সামাজিক ও পারিবারিক যেকোন একটি সমস্যার সুযোগ নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় অপকর্ম করে নিজের উত্থান সৃষ্টি করা। এছাড়াও রাজীব, এটিএম শামসুজ্জামান, খলিল, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু এরা ছিলেন সামাজিক সিনেমার শক্তিমান সামাজিক কূটকৌশলী ভিলেন চরিত্র। তবে ডিপজলের সাথে এই প্রথম আমি ফরীদি সাহেবদের ভিলেন চরিত্রের পার্থক্য খুজে পেলাম। সমাজে খারাপ চরিত্র বা গুণ্ডা শ্রেণির কাউকে বোঝাতে গেলে যে তার চেহারা হতে হবে কুশ্রী, পোশাক হবে বিশ্রী, ভাষা হবে আরও ভয়ংকর, তার সাথে যারা সাঙ্গ পাঙ্গ থাকবেন তারা এক প্রকার এমাজনের গহীন অরণ্যের প্রাণীর মত। চুল দাড়ি কখনোই কাটবেন না। পোশাক হবে ছেঁড়া ফাটা। হাতে সবসময় দা, হাসুয়া, ছুরি, পিস্তল থাকবে ! এক কথায় অসুন্দরের যতগুলো ব্যাখ্যা এখানে দাড় করানো যায় তার সবই এদের চরিত্রের মধ্যে পাওয়া যাবে। তবেই কি না ভিলেন ! সেকি এতো সামান্য কথা !

আমার মনে পড়ে সেদিন ডিপজল যখন তার ন্যাড়া মাথার নিয়ে ক্যামেরার সামনে বড়বড় চোখ বের করে ভয়ংকর এক মিউজিকের সাথে প্রথম পর্দায় আসলেন তখন আমার বাল্য হৃদ বন্ধ হওয়ার দশা। পরে অবশ্য মান্নার সাথে ফাইট, কাউন্টার ফাইটের সময় গুলোতে একই ধরণের ভীতিপ্রদ উত্তেজনা আমার শিশু হৃদয় আন্দোলিত করলেও সিনেমা দেখার পর অন্য অনেকের মত আমিও মান্না এবং ডিপজলের মুরিদ শ্রেণির লিস্টটা দীর্ঘ করেছিলাম। তখন আমার মতো অবুঝ দর্শকের কাছে সিনেমার ঢিশুম ঢিশুম মারামারিটাই ছিল একমাত্র শক্তিশালী বিনোদন। ফলে এর কদাচার দিক নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন পড়েনি বা বুঝিনি।

দুই

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার প্রভাব বরাবরই আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর প্রবল আকারে ছিল। আমাদের বেশিরভাগ সিনেমা তামিল সিনেমার অনুকরণে রিম্যাক করা হয়। আমি অবাক হয়ে খেয়াল করেছি যে আধুনিক বাংলাদেশে আমার সমবয়সী, ছোট বড় প্রায় অনেকের কাছেই বলিউডের সিনেমার চাইতে তামিল সিনেমার বিরাট কদর। দ্রাবিড় জাতিগোষ্ঠির শ্রেণীভুক্ত নিজেদের আদি ভারতীয় দাবি করা তামিল জাতির চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন খুব কম সিনেমা খুঁজে পাওয়া যায় যা কি না সুস্থ সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে। আর আধুনিক মুনাফা প্রতিযোগিতার যুগে তাদের বেশিরভাগ গল্পের ধরণ থাকে প্রাচীণ বুনো এক সমাজ ব্যবস্থার।

যেখানে গল্পের চরিত্রগুলো আধুনিক জীবনযাপনের সমস্ত সুযোগ ভোগ করেও আচার ব্যবহার হয়ে থাকে বন্য জানোয়ারের চেয়েও অদ্ভুত ধরণের। বিশেষ করে সিনেমার ভিলেন চরিত্রের পোশাক, আচরণ, কথা এতোটাই বাজে যে আধুনিক আইনসিদ্ধ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তা একেবারেই অচল। এখানে যিনি ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করবেন তাকে অবশ্যই বিশিষ্ট গোছের বিশ্রি চেহারার হতে হবে। তার ব্যবহার যত বেশি কদর্য হবে সিনেমার বাণজ্যিক সফলতা যত বেশি হবে বলেই ধরে নেয়া হয়।

আর খল চরিত্রের পার্শ্ব চরিত্রগুলোর অবস্থা দেখলে তো ছেড়ে দে মা কেদে বাঁচি দশা। মানুষের মত দেখতে হলেও এরা আঠারো হাজার মাখলুকের বাইরে বিশেষ একটা ভয়ংকর প্রাণি বলেই মনে হয়। কদর্য গোছের গোফ, অর্ধ উলঙ্গ লুঙ্গি, গায়ে শত সহস্র লোহার শিকল। আর কথায় কথায় দা হাঁসুয়ার ঝনঝাননি দেখলে মনে হয় না সিনেমার দেশে কোন আইন কানুন বলে কিছু আছে। যখন যে যে কাউকে প্রকাশ্য স্থলে কচু কাটা কাটা যায় ! আইনের বাপের শক্তি নেই যে গুণ্ডাদের ছোয়। এ সিনেমা গুলো আসলে আধুনিক ভারতীয় সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে কি না ব্যাপক অর্থে গবেষণার দাবি রাখলেও ব্যাপারটি বুনো দর্শকদের জন্য বিরাট তিক্ত বিষয়। তামিল সিনেমার অনুকরণে সিনেমা বানাতে গিয়ে আমাদের নির্মাতা প্রায়শই অসুন্দর চেহারার মানুষদের সাথে বড় ধরণের বৈষম্য করে ফেলেন।

তাদের গণ্ডদেশে একটা ধারণা পোক্ত হয়ে গেছে যে সিনেমায় যিনি খল চরিত্রে অভিনয় করবেন তার চেহারা কখনোই সুশ্রী হবে না। আর হিরো বা অন্যান্য পজিটিভ চরিত্রের চেহারা অবশ্যই মন্দ হবে না ! আর খল চরিত্রে অভিনয় করেন এমন কোনো ব্যক্তির বাস্তব চেহারা কথিত সুন্দর হলেও তাকে অবশ্যই বাজে করে উপস্থাপন করতেই হবে। তার মানে তারা বোঝাতে চান সমাজে যত খারাপ মানুষ আছেন তারা সবাই অসুন্দর চেহারার মানুষ। আর যাদের চেহারা সুন্দর তারা কখনোই খারাপ কাজ করতে পারেন না। আসলেই কি আমাদের সমাজের চিত্র চাই বলে? সিনেমার যেসব আন্ডার ওয়ার্ল্ড গডফাদার দেখি আর বাস্তব দুনিয়ায় যেসব গডফাদার আছেন তাদের সাথেও কি এসবের মিল আছে? কৈ, ইন্টারনেট ঘেঁটে ভারতের কথিত গডফাদার দাউদ ইব্রাহিমকে তো বিশ্রি দেখতে পেলাম না ! কালো বা বিশ্রি চেহারার মানুষরাই যদি সমাজে একমাত্র অপরাধ কর্ম করতেন তাহলে তো আফ্রিকায় সব সন্ত্রাসী জন্ম নিতেন ! আর ইউরোপ আমেরিকায় সব ফেরেশতা ! কিন্তু বাস্তবে কি তা হয়েছে? হয়নি।

এর বড় কারণ হচ্ছে সমাজে কে অপরাধী হবে? কে ভালো মানুষ হবে তা গায়ের রঙ, পোশাক পরিচ্ছদ সৃষ্টি করে না। ডিপজলকে তো এখন খল চরিত্রে দেখা যায় না। এর বাইরেও যেসব শক্তিমান খল অভিনেতা এখনো আমরা বাংলা সিনেমায় দেখতে পাই তাদের ক্ষেত্রেও একই দশা। হুমায়ুন ফরীদিদের মত ঠাণ্ডা ধীর স্থির শালীন কথায় এরা অপকর্ম করতে পারেন না। তাদের শুরুর ডায়ালগটাই হবে ভয়ংকর রকমের বিশ্রী। আর পোশাকের কথা তো বাদই দিলাম। ঢাকার অনেক বস্তির মানুষ ছেঁড়া ফাটা কাপড় পরেন তাহলে এরা কি সবাই সন্ত্রাসী কর্মের সাথে জড়িত?   মাঝে মধ্যে মিশা সওদাগরকে সুশ্রী পোশাকে দেখা গেলে সেখানে আবার তার ভূমিকা থাকে কিছুটা নরম স্বভাবের খারাপ ব্যক্তি।

অর্থাৎ পোশাক যত ভালো হবে গুণ্ডা তত ভালো হবে। এই বাজে ধারণা কথিত সুন্দরকে আরও সুন্দর করে দেখাচ্ছে। আর চেহারা কালো হওয়াতে আরও বাজেভাবে উপস্থাপন করছে। এটা সুস্পস্ট বর্ণবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। সিনেমার হিরো হতে গেলে সব সময় কথিত সুন্দর ফর্সা, লম্বা, স্টাইল করা চুল হতে হবে আর তারা ভালো কাজ ছাড়া অন্য কিছুই করবে না । বিপরীতে খল চরিত্র শুধু খারাপ আর খারাপের ঝাঁক ঝাঁক দুষ্ট চক্র নিয়ে বাজে কাজ করে সমাজ যাদের দেখতে বিশ্রী বলে আখ্যা দেন তাদের ছোট করে তুলে ধরবে ! ব্যাপারটি কত বড় ভ্রান্তি অবশ্যই আমাদের ভাবতে হবে।

কারণ আমার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি দেখেছি অনেকেই আমার চেহারা সিনেমার অমুক তমুক খল চরিত্রের সাথে তুলনা করেন ! আপনাদের কখনো এ ধরণের অভিজ্ঞতা হয়েছে কি না জানি না। নিশ্চয় আপনার ক্ষেত্রে এর উল্টোটাও ঘটতে পারে। যদি আপনি সেই সৌভাগ্যবান হন যে আপনার চেহারা সালমান খানের মত সুশ্রী গড়নের হয়। তাহলে বুঝুন তো আপনার কি আনন্দ হবে আর আমাদের মত যারা ডিপজল চেহারা বহন করি তাদের মনের কি দশা হয় ?

 

 

ই-বার্তা/ আশরাফুজ্জামান মণ্ডল