সর্বশেষ

‘আঙ্গুল তিনটা রাইখেন স্যার।’

‘দেশ স্বাধীন হইলে আমি ন্যাশনাল টিমের ক্যাপ্টেন হমু, ওপেনিং’এ নামমু। আঙ্গুল তিনটা রাইখেন স্যার।’

নারায়ণগঞ্জ এর সিদ্ধিরগঞ্জে পাক সেনাদের অতর্কিত হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে থাকাকালীন শহীদ জুয়েলের শেষ আকুতি ছিলো। সেখানে’ই তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পান বীর বিক্রম খেতাব। যিনি না থাকলে হয়তো সাকিব, তামিম, মুশফিক কিংবা একটা বাংলাদেশ থাকতো না, তাকে নিয়ে গর্ব’তো দূরে থাক তাকে ক’জনইবা মনে রেখেছি আমরা?

গর্বের বেশী থেকে দু:খের ব্যাপার হচ্ছে আমার আশেপাশের ৭০ ভাগ মানুষ’ই শহীদ জুয়েলকে চেনেন না। চেনার কথাও না আসলে। মিথ্যে দেয়াল লিখনে ভর্তি একটা জনপথে সত্যিকারের নায়কদের না চেনাটা স্বাভাবিক। বছর’দুয়েক আগে বিসিএসএ ( বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স এসোসিয়েশন ) থেকে তাকে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। পরবর্তী’তে বিসিবি তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে তুলে রাখে ৭১ নম্বর জার্সি। অর্থাৎ আর কেউ এই জার্সি পরে খেলতে পারবেন না। মিরপুরে একটি স্ট্যান্ডের নামও রাখা হয় তার নামে। 

আমাদের এতবড় গর্বের জায়গাটায় আমাদের জন্যই ধূলো পড়ে আছে। হুমায়ন আজাদ বলেছিলেন, ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।” চলেও গিয়েছে এখন।’

আজ  ১৯শে জানুয়ারি শহীদ জুয়েলের জন্মদিন। ১৯৫০ সালের আজকের এই দিনে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার দক্ষিণ পাইকশা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন তিনি।

যাইহোক, ওপারে ভালো থাকুক আমাদের শহীদ জুয়েল। মহান আল্লাহ্‌’তালা তাকে জান্নাত দান করুক। আর প্রকাশ্যে না হলেও অন্তরালে আমাদের গর্বের কাননে ফুল হয়ে ফুটুক শহীদ জুয়েলের স্মৃতি। শুভ জন্মদিন একজন মুক্তিযদ্ধা, একজন ক্রিকেটার শহীদ জুয়েল।

ই-বার্তা/ মাহারুশ হাসান