রোজা ফরজ হওয়ার ইতিহাস


ই-বার্তা প্রকাশিত: ২৮শে মে ২০১৭, রবিবার  | সকাল ১১:৪১ দেশ

পবিত্র রমজান মাসের আজ প্রথম দিন। সিয়াম সাধনার এক মাসের প্রথম দশদিনকে রহমতের দশ দিন বলা হয়। হিজরি দ্বিতীয় সনে রোজা ফরজ হওয়ার পর থেকে হযরত মুহম্মদ (সঃ) এর উম্মতেরা দীর্ঘ এক মাসব্যাপী রোজা পালন করে আসছেন। রোজার ক্ষেত্রে পাঁচটি পালনীয় দিক রয়েছে।
১. চাঁদ দেখে রোজা রাখা
২. সকাল হওয়ার আগে রোজার জন্য নিয়ত করা
৩. পানাহার ও জৈবিক চাহিদা পূরণ করা থেকে বিরত থাকা
৪. ইচ্ছাকৃত বমি করা থেকে নিবৃত্ত থাকা এবং
৫. রোজার পবিত্রতা রক্ষা করা

এক মাস রোজা পালনের ইতিহাস তুলে ধরা হোলো,
তাফসিরের বর্ণনায় রয়েছে, আদম (আঃ)-এর সৃষ্টির পর আল্লাহ্‌ তাঁকে ‘নিষিদ্ধ ফল’ বর্জনের যে আদেশ দিয়েছিলেন- এটাই মানব ইতিহাসের প্রথম সিয়াম সাধনা। আদম (আঃ) সেই রোজা ভাঙার কাফ্ফারাস্বরূপ ৪০ বছর রোজা রেখেছিলেন। আর ওই নিষিদ্ধ ফলের প্রভাব আদম (আঃ) এর পেটে ৩০ দিন বিদ্যমান ছিল বলে আল্লাহর রাসুলের উম্মতদের আল্লাহ এক মাস রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত ইব্রাহিম (আঃ) থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত সব যুগে ৩০টি রোজা ফরজ ছিল। হজরত মুসা (আঃ) ৩০ দিন রোজা রেখেছিলেন। তুর পাহাড়ে যাওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে অতিরিক্ত ১০টি রোজা রাখার আদেশ দেন। ফলে তাঁর রোজা হয়েছিল মোট ৪০ দিন। হজরত ঈসাও (আঃ) মুসা (আঃ) এর মতো ৪০ দিন রোজা রাখতেন। হজরত ইদ্রিস (আঃ) সারা বছর রোজা রেখেছিলেন। হজরত দাউদ (আঃ) এক দিন পর পর অর্থাৎ বছরে ছয় মাস রোজা রাখতেন।

ইসলামে যে রোজার বিধান, এতে তিনটি পরিবর্তনের ধারা দেখা যায়-
প্রথমত, মদিনায় এসে রাসুল (সাঃ) সর্বপ্রথম আশুরার রোজা রাখতেন। এটাই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ফরজ রোজা। এরপর রাসুল (সাঃ) প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখতেন। এগুলোকে আইয়ামে বিজের রোজা বলা হয়। হিজরতের দেড় বছর পর দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবান মদিনা শরিফে পূর্ণ এক মাস রোজা পালনের হুকুম অবতীর্ণ হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রথম দিকে এই নির্দেশ ছিল, যে চাইবে রোজা রাখবে আর যে চাইবে রোজার পরিবর্তে মিসকিনকে খাদ্য দান করবে। এ বিধান সুস্থ-অসুস্থ, সবল-দুর্বল সবার জন্যই ছিল। পরবর্তী সময়ে সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে সুস্থ-সবল ও বাড়িতে অবস্থানকারীর জন্য রোজা রাখা ফরজ করা হয়। তবে অসুস্থ, অতি দুর্বল, বার্ধক্যে জর্জরিত ও মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসময় এ আয়াত নাজিল হয় “রমজান মাস, এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে কোরআন- মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময় পূরণ করবে। আল্লাহ চান তোমাদের জন্য যা সহজ তা, আর তিনি চান না তোমাদের জন্য যা কষ্টকর তা, যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার জন্য এবং যেন তোমরা শোকর করতে পার”। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)
তৃতীয়ত, আগে রাতের বেলায় ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে আগে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস বৈধ ছিল কিন্তু ঘুমিয়ে যাওয়ার পর রাতে জেগে উঠলে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস নিষিদ্ধ ছিল। পরে সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তাআলা মাগরিব থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত রমজানের রাতে পানাহার ও স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দান করেন।

সর্বশেষ সংবাদ

দেশ এর আরও সংবাদ