সর্বশেষ

ক্যান্সার প্রতিরোধ করবে মুরগির ডিম!

ই-বার্তা ডেস্ক।।   প্রাণঘাতী রোগ ক্যান্সার প্রতিরোধে নানা রকমের চিকিৎসার কথা শোনা গেলেও এবার সেই রোগ নিয়ন্ত্রণ করবে মুরগির ডিম। মুরগির শরীরে জিনগত কিছু পরিবর্তন ঘটানোর পর ওই মুরগি যে ডিম পাড়বে সেটা দিয়েই এই চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে।

এর আগে বিজ্ঞানীরা ছাগল, খরগোশ এবং মুরগির শরীরে জিনগত কিছু পরিবর্তন ঘটালে তাদের ডিম কিংবা দুধে এমন কিছু প্রোটিন তৈরি হয় যা ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এগুলোর চেয়েও মুরগির ডিম দিয়ে তৈরি ওষধ অনেক বেশি কার্যকরী, উন্নত মানের এবং এই পদ্ধতিতে খরচও অনেক কম।

 

ড. হেরন বলেন, এই পদ্ধতিতে যে খরচ হবে সেটা কারখানায় এসব প্রোটিন উৎপাদনের খরচের তুলনায় ১০ থেকে ১০০ গুণ কম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবদেহে নানা রোগের জন্ম হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো আমাদের শরীর কোনো একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক কিংবা প্রোটিন খুব বেশি পরিমাণে তৈরি হয় না। কিন্তু এসব প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করার মাধ্যমে অনেক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ওষুধ প্রস্ততকারক বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কারখানায় এসব প্রোটিন উৎপাদন করে থাকে-যাতে অনেক অর্থ খরচ হয়।

বিজ্ঞানীরা মুরগির ডিএনএর ভেতরে মানুষের এমন একটি জিন ঢুকিয়েছেন যা মানবদেহের প্রোটিন তৈরি করে থাকে বলে জানান ড. হেরন এবং তার সহগবেষকরা।

তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন, এর ফলে মুরগির ডিমের শাদা অংশের মধ্যে ওই প্রোটিন পাওয়া গেছে। মুরগির ডিম ভেঙে, শাদা অংশকে কুসুম থেকে আলাদা করে দেখতে পেয়েছেন যে তাতে প্রচুর পরিমাণে মানব প্রোটিন রয়েছে।

প্রথম প্রোটিনটি ক্যান্সার-প্রতিরোধী এবং দ্বিতীয়টি ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ওষুধের একটি ডোজ তৈরি করতে মাত্র তিনটি ডিমই যথেষ্ট। এবং একটি মুরগি বছরে ৩০০টির মতো ডিম পাড়তে পারে।

গবেষকরা বলছেন, প্রচুর মুরগি চাষের মাধ্যমে এসব ওষুধ বাণিজ্যিক হারেও উৎপাদন করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব মুরগি থেকে প্রাণী-স্বাস্থ্যেরও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা যাবে।

এসব ডিম শুধু পরীক্ষার জন্যেই উৎপাদন করা হয়েছে। বিক্রির জন্যে এখনও বাজারে ছাড়া হয়নি বলে জানান তারা। সূত্র: বিবিসি।

ই-বার্তা/ শফিকুল ইসলাম