মিথ্যা বলার সময় মানুষ যেমন করে


ই-বার্তা প্রকাশিত: ২৪শে অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার  | সন্ধ্যা ০৭:১০ লাইফ

ই-বার্তা।। প্রতিনিয়ত আমরা কথা বলার সময় প্রায়শই মিথ্যে বলে থাকি। এই মিথ্যাটা কেউ ইচ্ছে করে বলি, আবার কেউ নিজেকে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য বলে থাকি। মিথ্যা বলতে গিয়ে অনেকে ধরা খেয়ে যাই। আবার অনেক সময় সাথে থাকা লোকেরা ধরতে পারেনা যে আমরা মিথ্যে বলছি।

এর মূলে রয়েছে মানুষের কিছু বাহ্যিক আচরণ। যা দেখে বোঝা যায় যে সে মিথ্যে বলছে। এই আচরণ গুলো আমাদের অনেকের জানা থাকেনা বলে আমরা অনেকেই ধরতে পারিনা আমাদের সাথে থাকা মানুষটি মিথ্যে বলছে কিনা। এ প্রসঙ্গে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বিশেষজ্ঞ ড্যারেন স্ট্যান্টন বলেন, আমাদের শরীরে একটি প্রক্রিয়া আছে, যাকে বলে ডিটেকশন অ্যাপ্রিহেনশন। এর অর্থ একজন মানুষ একটি মিথ্যাকে যত বেশি গোপন করতে চাইবে, তার শরীর সে বিষয়ে তত বেশি ইঙ্গিত দেবে।
তাহলে আসুন জেনে নেই মিথ্যা কথা বলার সময় মানুষের কিছু দৈহিক ও মানুশিক বৈশিষ্ট্য।

চোখের মণির নড়াচড়া:
এফবিআই কর্মকর্তা মার্ক বুটন বলেন, মানুষ যখন কোনো বিষয় বলতে গিয়ে অস্বস্তি অনুভব করে, তখন তার চোখের মণি এদিক-সেদিক নড়াচড়া করে। এর দ্বারা বোঝা যায়, সে তার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন দ্বারা জব্দ হয়ে গেছে, অথবা প্রশ্নের উত্তর দিতে চাচ্ছে না।

ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলা:
যখন কেউ মিথ্যা বলে, তখন সে পরপর পাঁচ-ছয় বার খুব দ্রুত চোখের পাতা ফেলতে পারে। মার্ক বুটনের মতে, সাধারণত মানুষ প্রতি মিনিটে পাঁচ থেকে ছয় বার, অর্থাৎ প্রতি ১০ থেকে ১২ সেকেন্ডে একবার চোখের পাতা ফেলে। কিন্তু যখন সে মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়, যখন তাকে চাপের মুখে কোনো মিথ্যা কথা বলতে হয়, তখন সে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই খুব ঘন ঘন পাঁচ-ছয়বার চোখের পাতা ফেলতে পারে।

ডান দিকের উপরের কোনায় তাকানো:
যখন কোনো মানুষকে এমন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, যা সে পূর্বে দেখেছে বা শুনেছে এবং তাকে একটু চিন্তা করে বিষয়টা স্মৃতি থেকে স্মরণ করে উত্তর দিতে হবে, তখন তার চোখের নড়াচড়া দেখে বোঝা সম্ভব, সে মিথ্যা বলছে কিনা। মার্ক বুটন ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেন এভাবে, ডানহাতি মানুষরা কোনো কিছু স্মৃতি থেকে মনে করার চেষ্টা করার সময় তাদের দৃষ্টি থাকে বাম দিকে উপরের কোনে। আর তারা যদি কল্পনাশক্তি ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের দৃষ্টি থাকে ডান দিকের উপরের কোনে। যারা বাঁহাতি, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ উল্টো। তবে বুটন বলেন, কিছু কিছু মানুষ সোজা সামনের দিকে তাকিয়েই স্মৃতিশক্তি বা কল্পনাশক্তি ব্যবহার করতে পারে।

ঠোঁট ভাঁজ করা:
মিথ্যা কথা বলার সময় মানসিক চাপের কারণে এবং শরীরের অভ্যন্তরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে মানুষের মুখ শুকিয়ে যেতে থাকে। ফলে তাকে ঘন ঘন দুই ঠোঁট ভাঁজ করে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিতে দেখা যায়। এছাড়া মিথ্যা কথা বলার সময় অনেককে ঘামাতে এবং বারবার ঢোক গিলতে দেখা যায়।

দ্রুত নিশ্বাস নেওয়া:
মিথ্যা কথা বলার সময় মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়। মিথ্যা কথা বলার সময় মানসিক চাপের কারণে হার্টবিট দ্রুত হয়ে যায় এবং হার্টে বেশি রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। একারণেই তখন দ্রুত নিশ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এছাড়াও মিথ্যা বলার সময় কেউ যদি চুইংগাম চিবুতে থাকে, তাহলে তার চিবুনোর হার দ্রুত হয়ে যায়। ধূমপান করার সময় মিথ্যা বলতে শুরু করলে সিগারেট দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

গলার স্বরের পরিবর্তন:
মিথ্যা কথা বলার সময় মানুষের গলার স্বর পরিবর্তিত হয়ে যায়। এ সময় নিজের অজান্তেই মানুষের গলার স্বরের তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পেতে পারে, অথবা গলার স্বর ভাঙা ভাঙা মনে হতে পারে। অনেকের মধ্যে এ সময় তোতলামিও দেখা যায়। অস্বস্তি কাটাতে গিয়ে মিথ্যা কথা বলার সময় অনেককে দ্রুত লয়ে কথা বলতে দেখা যায়।

দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া বা একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা:
সাধারণত মানুষ কারো সাথে কথা বলার সময় একটানা তিন থেকে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি তাকিয়ে থাকে না। মিথ্যা কথা বলার সময় এর ব্যতিক্রম দেখা যেতে পারে। অনেকে মিথ্যা কথা বলার সময় চোখে চোখ ধরে রাখার মতো মানসিক শক্তি অর্জন করতে পারে না। ধরা পড়ার ভয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়, অন্য কিছুর দিকে তাকিয়ে কথা বলে। কিন্তু সব সময় এটি সত্য না-ও হতে পারে। অনেকেই মিথ্যা কথা বলার সময় বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য এবং নিজেকে সত্যবাদী প্রমাণের জন্য জোর করে দীর্ঘ সময় ধরে তাকিয়ে থাকে।

সর্বশেষ সংবাদ

লাইফ এর আরও সংবাদ