যমজের এক বাচ্চা পেটে রেখেই সেলাই


ই-বার্তা প্রকাশিত: ২৬শে অক্টোবর ২০১৭, বৃহঃস্পতিবার  | দুপুর ০১:১২ অপরাধ

ই-বার্তা ।। কুমিল্লার সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে মেয়ে প্রসবের এক মাস সাত দিনে পরে ওই প্রসূতির পেট থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত ছেলে বের করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খাদিজা আক্তার (২০) নামে ওই গৃহবধূর পেট থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত অবস্থায় নবজাতককে উদ্ধার করেন। এরপর খাদিজাকে পোস্ট অপারেটিভে রাখা হয়েছে।

খাদিজার মা আমিনা বেগম জানান, দেড় বছর আগে তার মেয়ের বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পরপর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়। অন্তঃসত্ত্বার ৭-৮ মাসের সময় তাকে আল্টাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেই রিপোর্টে তারা জানতে পারেন খাদিজার পেটে যমজ সন্তান।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর প্রসব ব্যথা উঠলে খাদিজাকে নিয়ে যাওয়া হয় গৌরীপুরের লাইফ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি ক্লিনিকে। ওইদিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি মেয়ে জন্ম হয়। তখন স্বজনরা ডাক্তারকে খাদিজার পেটে যমজ বাচ্চা আছে জানালে ডাক্তার শেখ হোসনে আরা স্বজনদের জানান, খাদিজার পেটে বাচ্চা একটিই আর অন্যটি টিউমার। ৪ দিন ভর্তি রাখার পর তাকে ক্লিনিক থেকে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়।

খাদিজার দেবর আরিফ হোসেন জানান, ক্লিনিক থেকে খাদিজাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার কয়েকদিন পর থেকেই তার আবারও সমস্যা দেখা দেয়। ১৫ দিন পর আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা জানতে পারেন খাদিজার পেটে আরেকটি বাচ্চা আছে। এরপর রোববার রাত ৮টায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে একটি মৃত ছেলে বের করা হয়।

খাদিজার পেটে এক বাচ্চা রেখেই সেলাই করে দেয়া অভিযুক্ত সেই চিকিৎসক শেখ হোসনে আরার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

খাদিজা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার আলগিরচর গ্রামের ওমান প্রবাসী আউয়াল হোসেনের স্ত্রী। পাশের কলাকান্দি গ্রামে তার বাবার বাড়ি।

সর্বশেষ সংবাদ

অপরাধ এর আরও সংবাদ